Saturday, September 10, 2011

অথর্ববেদ সংহিতা : প্রথম কাণ্ড : প্রথম অনুবাক

প্রথম সূক্ত :

ওঁ। যে ত্রিষপ্তাঃ পরিযন্তি বিশ্বা রূপাণি বিভ্রতঃ।
বাচস্পতির্বলা তেষাং তন্বো অদ্য দধাতু মে।।১।।

অনুবাদঃ যে ভগবান অসংখ্য রূপ পরিগ্রহ করে নিখিল জগতের কল্যাণের জন্য চেতন অচেতনাত্নক সর্বত্র পরিভ্রমণ করেন, হে বাচস্পতিদেব, আমি যেন সে ভগবদ্বিষয়ক জ্ঞানলাভে সমর্থ হই।১।

পুনরেহি বাচস্পতে দেবেন মনসা সহ।
বসোস্পতে নি রময় ময্যেবাস্তু ময়ি শ্রুতম্।।২।।

অনুবাদঃ হে জ্ঞানাধিপতি, তুমি প্রকাশমান সত্ত্বগুণের দ্বারা আমাকে উদ্ভাসিত করে আমার মনের সাথে মিলিত হও। হে জ্ঞানরূপ ঐশ্বর্যের অধিপতি, আমার অন্তরে অবস্থান করে আমাকে মেধাসমৃদ্ধি প্রদানে আনন্দিত কর।২।

ইহৈবাভি বি তনূভে আর্ত্মী ইব জ্যয়া।
বাচস্পতিনি যচ্ছতু ময্যেবাস্তু ময়ি শ্রুতম্।।৩।।

অনুবাদঃ হে বেদরূপ বাক্যের পালক, ধনুতে গুণ যোজনা করলে যেমন তার অগ্রভাগ দুটি শরক্ষেপণকারীর দিকে আকৃষ্ট হয়, সেরূপ তোমার উপাসক আমাকে ঐহিক ও পারত্রিক ফলসাধক মেধা ও জ্ঞানের দিকে আকর্ষণ কর। হে আমার প্রভু, আমার বেদরূপ বাণীকে সংযত কর, তোমার অনুগ্রহে শাস্ত্রজ্ঞান যেন আমাতে স্থির হয়।৩।

উপহুতো বাচস্পতিরূপাস্মান্ বাচস্পতির্হ্বয়তাম্।
সং শ্রুতেন গমেমহি মা শ্রুতেন বি রাধিষি।।৪।।

অনুবাদঃ হে দেব তুমি জ্ঞানধিপালক ও ভক্তের প্রার্থনাপূরক, অর্চনার দ্বারা আহুত হয়ে তুমি বেদজ্ঞানে জন্য আমাদের মেধাদি শক্তি দাও, যাতে আমরা বেদাদি শাস্ত্রের সাথে যুক্ত হতে পারি এবং সে জ্ঞান থেকে যেন বিচ্যুত না হই।৪।

 

যজুর্বেদ সংহিতা : [শুক্লযজুর্বেদ-বাজসনেয়ি-মাধ্যন্দিন-সংহিতা] প্রথম অধ্যায়

মন্ত্র :-

ওঁ। ইষে ত্বোর্জে ত্বা বায়ব স্থ। দেবো বঃ সবিতা প্রার্পয়তু শ্রেষ্ঠতমায় কর্মণে।
আপ্যায়ধ্বমঘ্ন্যা ইন্দ্রায় ভাগং প্রজাবতীরনমীবা অযক্ষ্মা।
মা ব স্তেন ঈশত মাঘশংসো। ধ্রুবা অস্মিন গোপতৌ স্যাত বহ্বীঃ।
যজমানস্য পশূন্ পাহি।।১।।

অনুবাদঃ হে দেব, আমাদের অভীষ্ট পূরণ, বল ও প্রাণ প্রাপ্তির নিমিত্ত তোমাকে আহ্বান করছি। হে দেবগণ, তোমরা বায়ুর মত গতিশীল হও। সৎকর্মের প্রবর্তক দেবতা তোমাদের শ্রেষ্ঠতম কর্মে পরিচালিত করুক। অজর, অক্ষয়, অবিনশ্বর লোকপালিকা দেবীগণ ইন্দ্রের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত আমাদের পূজা সম্যকরূপে বর্ধন করুক। হে সদ্বৃত্তিসমূহ, তোমাদের শৈথিল্যে পাপমতি ইন্দ্রিয়াদিরূপ চোরগণ যেন আমাকে হিংসা করতে সমর্থ না হয়। হে দেবগণ, সত্যস্বরূপ সদ্বৃত্তিসমূহ জ্ঞানের আধারভূত আমাদের এ হৃদয়ে নিয়ত দেবভাবের স্ফূরণ করুক। হে দেব, যজমানকে (প্রার্থনাকারী আমাকে) পাপ হতে রক্ষা কর।১।

টীকাঃ ।।১।। শ্রেষ্ঠতমায় কর্মণে - শ্রেষ্ঠতম কর্মের নিমিত্ত। কর্ম চতুর্বিধ - অপ্রশস্ত, প্রশস্ত, শ্রেষ্ঠ ও শ্রেষ্ঠতম। লোক-বিরুদ্ধ বধ, বন্ধন, চৌর্য প্রভৃতি অপ্রশস্ত। লোকে প্রশংসনীয় বন্ধুবর্গপোষণাদি প্রশস্ত। স্মৃতি শাস্ত্রক্ত বাপী, কূপ, জলাশয় খননাদি কর্ম শ্রেষ্ঠ। বেদোক্ত যজ্ঞরূপ কর্ম শ্রেষ্ঠতম।

বসোঃ পবিত্রমসি। দ্যৌরসি পৃথিব্যসি।
মাতরিশ্বনো ঘর্মোহসি বিশ্বধা অসি।
পরমেণ ধাম্না দৃংহস্ব মা হ্বার্মা তে যজ্ঞপতি র্হ্বার্ষীৎ।।২।।

অনুবাদঃ হে দেব, তুমি ভগবানের নিবাসস্থল, যজ্ঞাদি কর্মের পবিত্রতা-সম্পাদক, দ্যুলোক ও ভূলোকব্যাপী চরাচরাত্মক এবং বায়ুর প্রকাশক। পরম তেজের দ্বারা তুমি সকলের ধারক। আমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি দর্শনে বিরূপ হয়ো না; তোমার যজ্ঞকারক উপাসক যেন কুটিল না হয়।২।

টীকাঃ ।।২।। বশঃ - ভগবন্নিবাসের হেতুভূত যজ্ঞাদি কর্মের। ঘর্ম - প্রকাশক। মা হ্বাঃ - কুটিল হয়ো না। মা হ্বার্ষীৎ - কুটিল না হোক; শুদ্ধ স্বভাব হোক অর্থাৎ আমিও যেন তোমার অনুগ্রহে সরল ও সদ্ভাব সম্পন্ন হই - এ প্রার্থনা।

বসো পবিত্রমসি শতধারং বসোঃ পবিত্রমসি সহস্রধারম্!
দেবস্ত্বা সবিতা পুনাতু বসোঃ পবিত্রেণ শতধারেণ সুপ্বা। কামধুক্ষঃ।।৩।।

অনুবাদঃ হে দেব, ভগবানের নিবাসহেতু তুমি যজ্ঞাদি সৎকর্মের শতপ্রকার পবিত্রতা সাধক, সেরূপ সৎকর্মের সহস্রপ্রকার পুণ্যফল প্রদাতাও তুমি - তোমার অনুকম্পায় আমাদের কর্মসমূহ সর্বতোভাবে পবিত্র হোক। হে মন, যজ্ঞাদ সৎকর্মের শত প্রকার পুণ্য অনুষ্ঠানের দ্বারা সবিতৃদেব তোমাকে পবিত্র করুন। তুমি কোন্ দেবতাকে আকর্ষণ করেছ?।৩।

টীকাঃ ।।৩।। সবিতা - সৎ কর্মের প্রবর্তয়িতা, জ্ঞানপ্রেরক। সুপ্বা - সুষ্ঠু পবিত্র করছে।

সা বিশ্বায়ুঃ। সা বিশ্বকর্মা। সা বিশ্বধায়াঃ।
ইন্দ্রস্য ত্বা ভাগং সোমেনাতনচ্ মি।
বিষ্ণো হব্যং রক্ষ।।৪।।

অনুবাদঃ সেই দেবতা বিশ্বায়ু (সকলের প্রাণ স্বরূপ), তিনি সমস্তকর্মের মূলভূত, তিনি সকলের ধারক ও পোষক। হে হবনীয়, ইন্দ্রদেবের ভাগ (যজ্ঞাংশরূপ) তোমাকে সোমের দ্বারা (শুদ্ধ সত্ত্বভাবে) সম্যকরূপে দৃঢ় করছি। হে বিষ্ণু, তুমি হবনীয়কে (আমাদের সত্ত্বভাবকে) রক্ষা কর।৪।

টীকাঃ ।।৪।। সোমেন - আহবনীয় দ্রব্য, যজ্ঞের শুদ্ধ সত্ব অংশ।

অগেন ব্রতপতে ব্রতং চরিষ্যামি তচ্ছকেয়ং তন্মে রাধ্যতাম্।
ইদমহমনৃতাৎ সত্যমুপৈমি।।৫।।

অনুবাদঃ হে ব্রতপালক অগ্নি, আমি ব্রত আচরণ করব (সৎকর্মের অনুষ্ঠান করব), তা করতে যেন সমর্থ হই। আমার সে কর্ম সিদ্ধ হোক। আমি অনৃত হতে (মিথ্যাস্বরূপ মনুষ্য জন্ম হতে) এ সত্যকে (সত্যস্বরূপ দেবত্বকে) লাভ করতে চাই।৫।

টীকাঃ ।।৫।। অনৃত - মনুষ্যজন্ম শিঘ্র বিনাশী বলে মিথ্যা বলা হয়েছে। সত্যম্ - বহুকাল স্থায়ী বলে দেবজন্মকে সত্য বলা হয়।

Friday, September 2, 2011

ঋগবেদ-সংহিতা : প্রথম মন্ডল : ১০ সূক্ত

ইন্দ্র দেবতাঃ। বিশ্বামিত্রের পুত্র মধুচ্ছন্দা ঋষি। অনুষ্টুপ্ ছন্দ।

সূক্ত - গায়ন্তি ত্বা গায়ত্রিণোহর্চন্ত্যর্কমর্কিণঃ। ব্রহ্মাণস্ত্বা শতক্রত উদ্বংশমিব যেমিরে।।১।।
অনুবাদ : ।।১।। হে শতক্রতু! গায়কেরা তোমার উদ্দেশ্যে গান করে, অর্চকেরা অর্চনীয় ইন্দ্রকে অর্চনা করে; নর্তকেরা যেরূপ বংশখন্ডকে উন্নত করে, স্তুতিকারেরা (১) তোমাকে সেরূপ উন্নত করে।

সূক্ত - যৎসানোঃ সানুমারুহদ্ভূর্যস্পষ্ট কর্ত্বং। তদিন্দ্রো অর্থং চেততি যূথেন বৃষ্ণরেজতি।।২।।
অনুবাদ : ।।২।। যজমান সোমলতা আহরণার্থ যখন সানু হতে অপর সানুতে আরোহণ করে, এবং প্রভূত কর্ম উপক্রম করে, তখন ইন্দ্র যজমানের প্রয়োজন জানতে পারেন, এবং অভীষ্টবর্ষণে উৎসুক হয়ে মরুৎদলের সাথে যজ্ঞস্থানে আগমনার্থ উদ্যত হন।

সূক্ত - যুক্ষ্বা হি কোশিনা হরী বৃষণা কক্ষ্যপ্রা। অথা ন ইন্দ্র সোমপা গিরামুপশ্রুতিং চর।।৩
অনুবাদ : ।।৩।। তোমার কেশরযুক্ত, পরাক্রান্ত এবং পুষ্টাঙ্গ অশ্বদ্বয় সংযোজিত কর; তারপর হে সোমপায়ী ইন্দ্র! আমাদের স্তুতি শ্রবণার্থ নিকটে এস।

সূক্ত - এহি স্ত্বোমাঁ অভি স্বরাভি গৃণীহ্যা রুব। ব্রহ্ম চ নো বসো সচেন্দ্র যজ্ঞং চ বর্ধয়।।৪
অনুবাদ : ।।৪।। হে নিবাসকারণভূত ইন্দ্র! এস আমাদের স্তুতির প্রশংসা কর, অনুমোদন কর ও শব্দদ্বারা আনন্দ প্রকাশ কর, আমাদের অন্ন ও যজ্ঞ এককালে বর্ধন কর।

সূক্ত - উক্ থমিন্দ্রায় শংস্যং বর্ধনং পুরুনিষ্ ষিধে। শক্রো যথা সুতেষু নো রারনৎ-সখ্যেষু চ।।৫
অনুবাদ : ।।৫।। বহু শত্রুনিষেধকারী ইন্দ্রের উদ্দেশ্যে বর্ধনকারী উক্ থ গীত হবে; যেন সে ক্ষমতাশালী ইন্দ্র আমাদের পুত্র ও বন্ধুদের মধ্যে মহানাদ করেন।

সূক্ত - তমিৎসখিত্ব ঈমহে তাং রায়ে তং সুবীর্য্যে। স শক্র উত নঃ শকদিন্দ্রো দয়মানঃ।।৬
অনুবাদ : ।।৬।। আমরা মিত্রতার জন্য, ধনের জন্য সুবীর্যের জন্য তাঁর নিকট যাই; সে ক্ষমতাশালী ইন্দ্র আমাদের ধন দান করে আমাদের রক্ষণসমর্থ হয়েছেন।

সূক্ত - সুবিবৃতং সুনিরজমিন্দ্র ত্বাদাতমিদ্যশঃ। অবামপ ব্রজং বৃধি কৃণুষ্ব রাধো অদ্রিবঃ।।৭
অনুবাদ : ।।৭।। হে ইন্দ্র! তোমার প্রদত্ত অন্ন সর্বত্র প্রসারিত এবং সুখপ্রাপ্য, হে বজ্রধারী ইন্দ্র! গাভীর নিবাসস্থান খুলে দাও ধন সম্পাদন কর।

সূক্ত - নহি ত্বা রোদসী উভে ঋঘায়মাণমিণ্বতঃ। জেষঃ স্বর্বতীরপঃ সং গা অস্মভ্যং ধূনূহি।।৮
অনুবাদ : ।।৮।। হে ইন্দ্র! শত্রুবধ কালে এ উভয় জগৎ তোমাকে ধারণ করতে পারে না; তুমি স্বর্গীয় জল জয় কর, আমাদের সম্যকরূপে গাভী প্রেরণ কর।

সূক্ত - আশ্রুৎকর্ম শ্রুধী হবং নূ চিদ্দধিষ্ব মে গিরঃ। ইন্দ্র স্তোমমিমং মম কৃষ্বা যুজশ্চিদন্তরম্।।৯
অনুবাদ : ।।৯।। হে ইন্দ্র! তোমার কর্ণ চারদিকে হতে শুনতে পায়, আমাদের আহ্বান শীঘ্র শ্রবণ কর; আমার স্তুতি ধারণ কর, আমার এ স্তোত্র ও আমার সখার স্তোত্র আপনার নিকটে ধারণ কর।

সূক্ত - বিদ্মা হি ত্বা বৃষন্তমং বাজেষু হবনশ্রুতং। বৃষন্তমস্য হূমহ ঊতিং সহস্রসাতমাম্।।১০
অনুবাদ : ।।১০।। আমরা তোমাকে জানি; তুমি প্রভূতরূপে অভীষ্ট বর্ষণ কর, তুমি সংগ্রামে আমাদের আহ্বান শ্রবণ কর; আমরা সম্যগভীষ্টবর্ষীর সহস্রধনপ্রদ আশ্রয় প্রার্থনা করি।

সূক্ত - আ তূ ন ইন্দ্র কৌশিক মন্দসানঃ সুতং পিব। নব্যমায়ুঃ প্র সূ তির কৃধী সহস্রসামৃষিম্।।১০
অনুবাদ : ।।১১।। হে ইন্দ্র! শীঘ্র আমাদের নিকটে এস; হে কুশিকপুত্র (২) হৃষ্ট হয়ে অভিষুত সোম পান কর; নব্য আয়ুঃ সম্যকরূপে বর্ধন কর, এ ঋষিকে সহস্রধনোপেত কর।

সূক্ত - পরি ত্বা গির্বণো গির ইমা ভবন্তু বিশ্বতঃ। বৃদ্ধায়ুমনু বৃদ্ধয়ো জুষ্টা ভবন্তু জুষ্টয়ঃ।।১০
অনুবাদ : ।।১২।। হে স্তুতিভাজন ইন্দ্র! চারদিক হতে এ স্তুতি তোমার নিকট উপনীত হোক; তুমি দীর্ঘায়ূঃ, তোমাকে অনুসরণ করে সে স্তুতি বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হোক; তোমার প্রীতি সাধন করে সে স্তুতি আমাদের প্রীতিকর হোক।

টীকাঃ
১। মূলে 'ব্রহ্মাণঃ' আছে। ঋগ্বেদে 'ব্রহ্ম' অর্থে স্তুতি বা প্রার্থনা এবং 'ব্রহ্ম' অর্থে স্তুতিকারী পুরোহিত। সায়ণ এ অর্থ করেছেন, এবং ইউরোপীয় পন্ডিতগণও ঐ অর্থ করেন। পন্ডিতবর রোথ 'ব্রহ্ম' শব্দের সাতটি অর্থ করেছেন, যথা - প্রার্থনা, মন্ত্র, পবিত্রবাক্য, জ্ঞান, সততা, পরমাত্মা, এবং পুরোহিত। মক্ষমূলর বিবেচনা করেন বৃহ ধাতুর একটি অর্থ বর্ধন, আর একটি অর্থ বাক্য এবং ঐ ধাতু হতে 'বৃহস্পতি' ও 'ব্রহ্মণস্পতি' উৎপন্ন হয়েছে। Origin and Growth ofReligion (1882) PP. 366, 367 note. ব্রহ্মণস্পতি বা বৃহস্পতি স্তুতিদেব। [ হে ইন্দ্র! স্তুতিকারের (৩) ধনযুক্ত পাত্র হতে ঋতুদের পর তুমি সোম পান কর, যেহেতু তোমার মিত্রতা অবিচ্ছিন্ন। হে ব্রহ্মণস্পতি (১)! সোমরসদাতাকে (অর্থাৎ আমাকে) উশিজ-পুত্র কক্ষীবানের (২) ন্যায় দেবগণের নিকট প্রসিদ্ধ কর। ]
২। "যদ্যপি বিশ্বামিত্রঃ কুশিকস্য পৃত্রস্তথাপি তদ্রুপেণ ইন্দ্রস্যৈবোৎপন্নত্বাৎ কুশিকপুত্রত্বমবিরুদ্ধম্।" "কুশিকস্ত্বৈষীরথিরিন্দ্রতুল্যং পুত্রমিচ্ছন ব্রহ্মচর্যং চচার। তস্যেন্দ্র এব গাথীপুত্র যজ্ঞে।" সায়ণ।

ঋগবেদ-সংহিতা : প্রথম মন্ডল : ৯ সূক্ত

ইন্দ্র দেবতাঃ। বিশ্বামিত্রের পুত্র মধুচ্ছন্দা ঋষি। গায়ত্রী ছন্দ।

সূক্ত - ইন্দ্রেহি মৎস্যন্ধসো বিশ্বেভিঃ সোমপর্বভিঃ। মহাঁ অভিষ্টিরোজসা।।১।।
অনুবাদ : ।।১।। হে ইন্দ্র! এস, সোমরসরূপ খাদ্য সমূহে হৃষ্ট হও; মহাবল হয়ে শত্রুদের পরাজয়ী হও।

সূক্ত - এমেনং সৃজতা সুতে মন্দিমিন্দ্রায় মন্দিনে। চক্রিং বিশ্বানি চক্রয়ে।।২।।
অনুবাদ : ।।২।। হর্ষজনক ও কার্যকারণে উত্তেজক সোমরস প্রস্তুত হলে হর্ষযুক্ত ও সর্বকর্মকারক ইন্দ্রকে উৎসর্গ কর।

সূক্ত - মৎস্বা সুশিপ্র মন্দিভিঃ স্তোমেভির্বিশ্বচর্যণে। সচৈষু সবনেষ্বা।।৩
অনুবাদ : ।।৩।। হে সুশিপ্র ইন্দ্র! সকল মানুষের অধীশ্বর! হর্ষজনক স্তুতি সমূহদ্বারা হর্ষযুক্ত হও; দেবগণের সাথে এ সবন সমূহে এস।

সূক্ত - অসৃগ্রমিন্দ্র মে গিরঃ প্রতি ত্বামুদহাসত। অজোষা বৃষভং পতিম্।।৪
অনুবাদ : ।।৪।। হে ইন্দ্র! আমি তোমার স্তুতি রচনা করেছি; তুমি অভীষ্টবর্ষী ও পালনকারী, সে স্তুতি তোমাকে প্রাপ্ত হয়েছে, সে স্তুতি তুমি গ্রহণ করেছ।

সূক্ত - সং চোদয় চিত্রমর্বাগ্রাধ ইন্দ্র বরেণ্যং। অসদিত্তে বিভু প্রভুঃ।।৫
অনুবাদ : ।।৫।। হে ইন্দ্র! শ্রেষ্ঠ ও বহুবিধ ধন আমাদের অভিমুখে প্রেরণ কর; পর্যাপ্ত ও প্রভূত ধন তোমারই আছে।

সূক্ত - অস্মান্ত্ সু তত্র চোদয়েন্দ্র রায়ে রভস্বতঃ। তুবিদ্যুম্ন যশস্বতঃ।।৬
অনুবাদ : ।।৬।। হে প্রভূত-ধনশালী ইন্দ্র! ধন সিদ্ধির জন্য আমাদের এ কর্মে নিযুক্ত কর; আমরা উদ্যোগবান্ ও কীর্তিমান।

সূক্ত - সং গোমদিন্দ্র বাজবদস্মে পৃথু শ্রবো বৃহৎ। বিশ্বায়ুর্ধেহ্যক্ষিতম্।।৭
অনুবাদ : ।।৭।। হে ইন্দ্র! গাভীযুক্ত অন্নযুক্ত প্রভূত ও বৃহৎ সমস্ত আয়ুর কারণ ও বিনাশরহিত ধন আমাদের প্রদান কর।

সূক্ত - অস্মে ধেহি শ্রবো বৃহদ্দ্যুম্নং শহস্রসাতমং। ইন্দ্র তা রথিনীরিষঃ।।৮
অনুবাদ : ।।৮।। হে ইন্দ্র! আমাদের মহৎ কীর্তি এবং সহস্রদানযুক্ত ধন এবং বহু রথপূর্ণ সে অন্ন দান কর।

সূক্ত - বসোরিন্দ্রং বসুপতিং গীর্ভিগৃণন্ত ঋগ্নিয়ং। হোম গন্তারমূতয়ে।।৯
অনুবাদ : ।।৯।। ধনরক্ষার্থ আমরা স্তুতি দ্বারা স্তব করতে করতে ইন্দ্রকে আহ্বান করি, তিনি ধনপালক, ঋক্ প্রিয়, এবং যজ্ঞে গমন করেন।

সূক্ত - সুতেসুতে ন্যোকসে বৃহদ্বৃহত এদরিঃ। ইন্দ্রায় শূষমর্চতি।।১০
অনুবাদ : ।।১০।। প্রত্যেক সবনে যজমানগণ নিত্যনিবাস ও প্রৌঢ় ইন্দ্রের বৃহৎ পরাক্রমের প্রশংসা করে।